International

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি বৈঠক ডেকেছে আইসিসি

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে বাংলাদেশ দলের সমর্থন করে ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের এমন ঘোষণায় বিপাকে পড়েছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইসিসি)।

যে কারণে আজ ভার্চ্যুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার। একই খবর দিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিও।

সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, আইসিসি একটি মিটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করায় পাকিস্তানকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হতে পারে। আরেক সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ জানায়, এই মিটিং আগামীকাল কিংবা বৃহস্পতিবার হতে পারে।

ভারতের সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাগরণ লিখেছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার বিষয়টি এখনো আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পিসিবি। তবে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আজই আইসিসিকে ই-মেইল করার কথা পিসিবির।

সূত্র মতে, পাকিস্তানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে জয় শাহর নেতৃত্বধীন বোর্ড থেকে। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর বাবা ভারতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল রাতে পাকিস্তান সরকারের এক পোস্টে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়োন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমোদন দিচ্ছে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।’

আইসিসি জানিয়েছে, (ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলা) এ বিষয়ে তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় আছে।

তবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান যদি বেছে বেছে কিছু ম্যাচে অংশ নেয়, তবে সেটি টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করবে। আইসিসি সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য যেমন ভালো হবে না, তেমনি পাকিস্তানসহ সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের জন্যও তা হতাশার। আইসিসি পিসিবিকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানিয়েছে।

জিও সুপারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে রয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং ভবিষ্যতে আইসিসির টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যান্য শীর্ষ ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সীমিত করা এবং পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে পারে আইসিসি। পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার কারণে সম্প্রচারকারী সংস্থা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের যে ক্ষতি হবে, তার জন্য পিসিবিকে দায়ী করে তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও চাওয়া হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *